আদিলুর-এলানের শাস্তিতে উদ্বেগ ফ্রান্স-জার্মানির, ৪৮ নাগরিকের উদ্বেগ


নিজস্ব প্রতিবেদক

আরটিএনএন

ঢাকা: অধিকার সম্পাদক আদিলুর রহমান খান এবং পরিচালক এএসএম নাসিরুদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে আদালতের দেয়া রায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স ও জার্মানি।

দুই দেশ এ বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি আইনের শাসনের প্রতি গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল ফ্রান্স ও জার্মানি। বাকি বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মানবাধিকারকে অব্যাহতভাবে সমর্থন দিয়ে যাবে তারা।

আদিলুর রহমান খান এবং এএসএম নাসিরুদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে আদালত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে অনুশোচনা করি আমরা। এতে আরও বলা হয়, এ পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছি এবং এ ঘটনা নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবো। আমরা স্মরণ করি, মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অধিকারের পক্ষে আদিলুর রহমান ২০১৭ সালে ফ্রাঙ্কো-জার্মান প্রাইজ ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড রুল অব ল পুরস্কার গ্রহণ করেন।

প্রতিটি সমৃদ্ধ জাতির জন্য অত্যাবশ্যকীয় বিষয় হলো গতিশীল একটি নাগরিক সমাজ।

মুক্তি দাবি করেছেন ৪৮ জন বিশিষ্ট নাগরিকের

মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলানের মুক্তি দাবি করেছেন ৪৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বলেন, দীর্ঘদিন যাবত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ, অনুসন্ধান এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য প্রকাশ করে আসা অধিকার-এর শীর্ষ দুই মানবাধিকার কর্মীকে শাস্তির মুখোমুখি করার ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করি, এ ঘটনা মৌলিক মানবাধিকার চর্চার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করবে এবং মানবাধিকার কর্মীদের নিরুৎসাহিত করবে।

আমরা অবিলম্বে আদিলুর রহমান খান এবং এ এস এম নাসির উদ্দিন এলানের মুক্তি দাবি করছি। একই সাথে মানবাধিকার কর্মীদের সুরক্ষা দেয়ার দাবি জানাই এবং তাদের বিরুদ্ধে সকল হয়রানির অবসান চাই।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরদাতারা হলেন-

হোসেন জিল্লুর রহমান, অর্থনীতিবিদ; হামিদা হোসেন, মানবাধিকারকর্মী; আলী ইমাম মজুমদার, সাবেক সচিব; ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি; ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, অর্থনীতিবিদ; ড. বদিউল আলম মজুমদার, সম্পাদক, সুজন; পারভীন হাসান, উপাচার্য, ন্যাশনাল উইমেনস ইউনিভার্সিটি; অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ; অধ্যাপক সি আর আবরার; সুব্রত চৌধুরী, আইনজীবী; শাহদীন মালিক, আইনজীবী; তাবারক হোসাইন, আইনজীবী; শহিদুল আলম, আলোকচিত্রী; আসিফ নজরুল, অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; সারা হোসেন, আইনজীবী; শামসুল হুদা, নির্বাহী পরিচালক, এএলআরডি; শারমিন মোর্শেদ, অধিকারকর্মী; নুর খান লিটন, মানবাধিকারকর্মী; সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আইনজীবী; জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, আইনজীবী; জাকির হোসেন, মানবাধিকারকর্মী; সঞ্জীব দ্রং, মানবাধিকারকর্মী; রেজাউর রহমান লেনিন, অধিকারকর্মী; রেহনুমা আহমেদ, লেখক; শিরিন হক, মানবাধিকারকর্মী; নায়লা খান, শিশুবিশেষজ্ঞ; অধ্যাপক স্বপন আদনান; সাইদুর রহমান, অধিকারকর্মী; রোজিনা বেগম, ইইউ ফেলো, মাহিডল বিশ্ববিদ্যালয়, থাইল্যান্ড; মো. মাহিদুল ইসলাম, শিক্ষক; তাসনিম সিরাজ মাহবুব, শিক্ষক; রুশাদ ফরিদি, শিক্ষক; অধ্যাপক বিনা ডি কস্তা; অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের; অধ্যাপক নায়মা হক; অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজিমুদ্দিন খান; সামিনা লুৎফা, শিক্ষক; হানা শামস্ আহমেদ, অধিকারকর্মী; সায়েমা খাতুন, গবেষক; মাহা মির্জা, লেখক ও গবেষক; সায়দিয়া গুলরুখ, সাংবাদিক ও গবেষক; অরূপ রাহী, সংগীতশিল্পী; নাসের বখতিয়ার, ব্যাংকার; মুক্তাশ্রী চাকমা, মানবাধিকারকর্মী; নাসরিন খন্দকার, নৃবিজ্ঞানী; ড. নাওমি হোসেন, সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডন; সাদাফ নুর, নৃবিজ্ঞানী ও গবেষক; সেলিম সামাদ, অধিকারকর্মী।